বাজেটের মধ্যে সেরা মাউস
প্রতিদিনের কম্পিউটার ব্যবহারে মাউস হলো সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করা একটি ডিভাইস। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ডিজাইন কিংবা গেমিং যেটাই করুন না কেন, একটা ভালো মাউস পুরো এক্সপেরিয়েন্স বদলে দিতে পারে। অনেকের ধারণা, প্রিমিয়াম পারফরম্যান্স পেতে হলে মাউসের পেছনে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাজেটের মধ্যেই এখন পাওয়া যাচ্ছে সাইলেন্ট ক্লিক, ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি, এরগোনমিক ডিজাইন আর নির্ভুল সেন্সরের মতো ফিচার। আজকের আর্টিকেলে এমন ছয়টি মাউস নিয়ে আলোচনা করা হবে, যেগুলো দামের তুলনায় দুর্দান্ত ভ্যালু দেয়।
মাউস কেনার আগে যা যাচাই করবেন
কানেক্টিভিটি
Wireless মাউস ব্যাটারির ঝামেলা ছাড়াই কাজ করে এবং ইনপুট ল্যাগ প্রায় শূন্য থাকে, তাই ডেস্কে বসে দীর্ঘসময় কাজ বা গেমিংয়ের জন্য বেশি নির্ভরযোগ্য। আর Wireless মাউস ক্যারি করা সহজ, ডেস্ক গুছিয়ে রাখা যায় তবে চার্জ বা ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে হুট করে কাজ থেমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
DPI
সাধারণ কাজ ডকুমেন্ট এডিটিং, ব্রাউজিং, মেসেজিং এর জন্য ৮০০–১৬০০ DPI যথেষ্ট, এর বেশি হলে কার্সর অতিরিক্ত সেন্সিটিভ মনে হতে পারে। গেমিংয়ের জন্য ২৪০০+ DPI ভালো, কারণ দ্রুত মুভমেন্টে বাড়তি সেন্সিটিভিটি কাজে লাগে। DPI অ্যাডজাস্ট করার অপশন থাকলে এক মাউস দিয়েই দুই ধরনের কাজ চালানো যায়।
এরগোনমিক্স
হাতের সাইজ ও গ্রিপ স্টাইলের (পাম, ক্ল, ফিঙ্গারটিপ) সাথে মাউসের শেপ না মিললে দীর্ঘসময় ব্যবহারে কব্জি বা আঙুলে ব্যথা হতে পারে। পাম গ্রিপে বড়-কার্ভড, ক্ল গ্রিপে মাঝারি, আর ফিঙ্গারটিপ গ্রিপে ছোট-হালকা মাউস বেশি আরামদায়ক। সম্ভব হলে কেনার আগে হাতে ধরে দেখাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সাইলেন্ট ক্লিক
লাইব্রেরি, শেয়ারড অফিস বা রাতে কাজ করলে সাইলেন্ট ক্লিক ফিচার থাকা মাউস বেছে নেওয়াই ভালো। ক্লিকের শব্দ অনেকটাই কমে যায়, কিন্তু হাতে যে ফিডব্যাক পাওয়া যায় তা প্রায় আগের মতোই থাকে।
ব্যাটারি
ওয়্যারলেস মাউসের ক্ষেত্রে রিচার্জেবল ব্যাটারি বা দীর্ঘস্থায়ী AA/AAA সাপোর্ট আছে কিনা দেখে নিন, যেন বারবার চার্জ দেওয়ার ঝামেলা না হয়। অটো-স্লিপ মোড থাকলে ব্যাটারি আরও বেশিদিন টেকে।
বাজেটের মধ্যে সেরা মাউস
Logitech M331 Silent Plus
অফিস, লাইব্রেরি বা রাতে কাজ করা মানুষদের কথা ভেবে বানানো একটা মাউস হলো Logitech M331 Silent Plus। এর ক্লিক সাউন্ড সাধারণ মাউসের তুলনায় প্রায় ৯০% কম, কিন্তু ক্লিকের অনুভূতি বা ফিডব্যাক আগের মতোই থাকে—তাই টাইপ করার সময় বা ক্লিক করার সময় কোনো তাড়াহুড়ো ভাব আসে না।
এর অপটিক্যাল সেন্সর ১০০০ DPI-তে স্মুথ ও নির্ভুল কার্সর মুভমেন্ট দেয়, যা ডকুমেন্ট ওয়ার্ক বা ব্রাউজিংয়ের জন্য যথেষ্ট। কনট্যুরড শেপ হাতের তালুর সাথে ভালোভাবে ফিট হয়, ফলে দীর্ঘসময় কাজ করলেও হাত ক্লান্ত হয় না। ২.৪GHz ওয়্যারলেস রিসিভার দিয়ে সহজে যেকোনো ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে কানেক্ট করা যায়, আর একটা AA ব্যাটারিতেই মাস দেড়েক চলে যাওয়ার মতো ব্যাটারি লাইফ পাওয়া যায়।
Fantech W191 Blake
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য হালকা-পাতলা কিন্তু নির্ভরযোগ্য একটা মাউস খুঁজলে Fantech W191 Blake ভালো একটা অপশন। কমপ্যাক্ট সাইজ হওয়ায় ব্যাগে রাখা বা ক্যারি করা সহজ, আর ২.৪GHz ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি স্টেবল সিগন্যাল দেয়।
এতে থাকা অপটিক্যাল সেন্সর ১৬০০ DPI পর্যন্ত সাপোর্ট করে, যা সাধারণ ব্রাউজিং থেকে শুরু করে হালকা ডিজাইন ওয়ার্কেও কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো। ৬ মাস পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যায় বলে বারবার ব্যাটারি বদলানোর ঝামেলা কম। মিনিমাল ডিজাইন আর একাধিক কালার অপশন থাকায় যেকোনো সেটআপের সাথে মানিয়ে যায়।
Redragon M711 Cobra – RGB
বাজেটের মধ্যে গেমিং পারফরম্যান্স চাইলে Redragon M711 Cobra একটা জনপ্রিয় নাম। ওয়্যার্ড কানেক্টিভিটি হওয়ায় ল্যাটেন্সি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি, যা কম্পিটিটিভ গেমিংয়ে সুবিধা দেয়। এর অপটিক্যাল সেন্সর ১০,০০০ DPI পর্যন্ত সাপোর্ট করে এবং অন-দ্য-ফ্লাই DPI সুইচ বাটন দিয়ে মুহূর্তেই সেন্সিটিভিটি বদলানো যায়।
৭টি প্রোগ্রামেবল বোতাম থাকায় ম্যাক্রো বা কুইক-অ্যাকশন সেট করা যায়, যা FPS বা MOBA গেমে বাড়তি সুবিধা দেয়। RGB লাইটিং কাস্টমাইজ করা যায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে, আর টেক্সচার্ড গ্রিপ দীর্ঘ গেমিং সেশনেও হাত পিছলে যাওয়া রোধ করে। বিল্ড কোয়ালিটি বেশ মজবুত, তাই এন্ট্রি-লেভেল গেমিং মাউস হিসেবে এটি অনেকদিন টেকসই হওয়ার কথা।
Rapoo M10 Plus
ছোট, হালকা আর নিঃশব্দ একটা মাউস খুঁজলে Rapoo M10 Plus বেশ ভালো একটা অপশন। এর সাইলেন্ট ক্লিক প্রযুক্তি বাটন প্রেসের শব্দ অনেকটাই কমিয়ে দেয়, ফলে মিটিং বা পাবলিক প্লেসে ব্যবহার করলেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় না।
১০০০ DPI অপটিক্যাল সেন্সর দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট নির্ভুল ট্র্যাকিং দেয়। ছোট আকৃতির কারণে ব্যাগে বা পকেটে সহজেই বহন করা যায়, যা ফ্রিল্যান্সার বা ঘন ঘন ট্রাভেল করা মানুষদের জন্য সুবিধাজনক। একটা মাত্র AAA ব্যাটারিতেই দীর্ঘদিন চলার মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
Havit MS753
কম বাজেটে গেমিং লুক ও পারফরম্যান্স দুটোই চাইলে Havit MS753 বিবেচনায় রাখা যায়। ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি থাকায় ডেস্ক পরিষ্কার রাখা যায়, আবার প্রয়োজনে ইউএসবি ক্যাবল দিয়ে ওয়্যার্ড মোডেও ব্যবহার করা যায় অর্থাৎ ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলেও কাজ বন্ধ থাকে না।
এতে RGB লাইটিং ইফেক্ট আছে যা গেমিং সেটআপে বাড়তি স্টাইল যোগ করে। ৬টি বোতাম ও অ্যাডজাস্টেবল DPI (সর্বোচ্চ ৩২০০) থাকায় হালকা গেমিং থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহার দুটোতেই মানিয়ে যায়। এরগোনমিক শেপ ও রাবারাইজড সাইড গ্রিপ হাতে ভালো কন্ট্রোল দেয়।
A4Tech Fstyler FM10
যারা সিম্পল, নির্ভরযোগ্য আর কমবো (কীবোর্ড-মাউস সেট) ফ্রেন্ডলি অপশন খুঁজছেন, তাদের জন্য A4Tech-এর Fstyler সিরিজের FM10 একটা পরিচিত ও ভরসাযোগ্য নাম। এর ২.৪GHz ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি স্টেবল এবং রেঞ্জও মোটামুটি ভালো।
১০০০ DPI অপটিক্যাল সেন্সর টাইপিং ও ব্রাউজিংয়ের জন্য যথেষ্ট মসৃণ পারফরম্যান্স দেয়। এরগোনমিক কার্ভড ডিজাইন হাতের তালুর সাথে আরামদায়কভাবে ফিট হয়, আর ম্যাট ফিনিশ হাত পিছলে যাওয়া রোধ করে। দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ ও প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে সুবিধা থাকায় প্রথমবার ওয়্যারলেস মাউস ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি সহজ একটা চয়েস।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বাজেটের মধ্যে ভালো মাউস কেনার সময় কোন বিষয়গুলো দেখা উচিত?
বাজেটের মধ্যে মাউস কেনার সময় কানেক্টিভিটি, DPI, এরগোনমিক ডিজাইন, সাইলেন্ট ক্লিক, ব্যাটারি লাইফ এবং ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করা উচিত। অফিসের কাজের জন্য সাইলেন্ট ওয়্যারলেস মাউস ভালো, আর গেমিংয়ের জন্য উচ্চ DPI ও কম ল্যাটেন্সির মাউস বেশি উপযোগী।
অফিসের কাজের জন্য কোন বাজেট মাউস ভালো?
অফিস, লাইব্রেরি বা দীর্ঘসময় কাজের জন্য Logitech M331 Silent Plus এবং Rapoo M10 Plus ভালো অপশন। দুটিতেই সাইলেন্ট ক্লিক ফিচার রয়েছে, ফলে কাজের সময় বিরক্তিকর ক্লিকের শব্দ কম হয়।
বাজেটের মধ্যে গেমিংয়ের জন্য কোন মাউস বেছে নেওয়া উচিত?
বাজেটের মধ্যে গেমিংয়ের জন্য Redragon M711 Cobra এবং Havit MS753 ভালো অপশন। Redragon M711 Cobra কম ল্যাটেন্সি ও 10,000 DPI সেন্সর দেয়, আর Havit MS753 ওয়্যারলেস ও ওয়্যার্ডদুই মোডেই ব্যবহার করা যায়।
বাংলাদেশে EMI সুবিধায় মাউস কেনা যায় কোথায়?
TechLand BD থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন মডেলের মাউস EMI সুবিধায় কেনা যায়, ফলে একসাথে পুরো টাকা খরচ না করেও পছন্দের মাউসটি নেওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে কোন জায়গায় Gaming Mouse সব ধরনের মডেল কোথায় পাওয়া যায়?
TechLand BD-তে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের Wired, Wireless ও Gaming Mouse একসাথে পাওয়া যায়, ফলে বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনা করে সহজেই পছন্দের মডেলটি বেছে নেওয়া যায়।
বাংলাদেশে ১০০% অরিজিনাল মাউস কোথা থেকে নিশ্চিন্তে কেনা যায়?
TechLand BD থেকে অরিজিনাল ও ওয়ারেন্টিসহ মাউস কেনা যায়, পাশাপাশি একই জায়গা থেকে কীবোর্ড, হেডফোনসহ অন্যান্য কম্পিউটার এক্সেসরিজও সংগ্রহ করা যায়।
Discussion
0Leave a Comment
No comments yet
Be the first to share your thoughts!